পূর্বধলা জে.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় |
সুশিক্ষা,সংস্কৃতি,খেলাধূলা জগৎ-এর এক অনবদ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্বধলা জে.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। শতবর্ষের বিদ্যাপীঠ পূর্বধলা জে.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সৃষ্টি লগ্ন ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দ হলেও লোকমতে এ প্রাতিষ্ঠনিক সনদ অনুসারে এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ।মূলত বিদ্যালয়টির ভিত প্রতিষ্ঠা হয় উনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়কালে । তৎকালিন জমিদার শ্রীনাথ সিংহের পুত্র শ্রীমন্ত সিংহ তার নিজ বাড়িতে মানসিক প্রশান্তির জন্য একটি পাঠাগার স্থাপন করেন এবং তার পাশাপাশি একটি বাংলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।প্রাথমিককালে তিনি নিজেই ঐ বিদ্যালয়ে পাঠদান করতেন।কালক্রমে সিংহ বাড়ির তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি চলতে থাকে এবং পরবর্তিতে বাংলা স্কুলটি ইংরেজী স্কুলে রূপান্তরিত হয়।আরও কিছুকাল পরে অর্থাৎ বিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে পূর্বধলার সিংহ পরিবারের বিশিষ্ঠ ব্যক্তি প্রশন্ন সিংহ স্কুলটির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।পুত্র সন্তানহীন প্রশন্ন সিংহ ইংরেজী স্কুলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। বিদ্যালয় কমিটি প্রশন্ন সিংহের সাহায্য সহযোগিতা এবং তাঁর আগ্রহের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে প্রশন্ন সিংহের মাতার নাম অনুসারে ১৯১৬ সালে বিদ্যালয়টির নাম দেন পূর্বধলা জগৎমনি উচ্চ বিদ্যালয়।বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রমথ সান্ডাল। তারঁ নেতৃত্তে ১৯২০ সালে ২৬ জন শিক্ষার্থী প্রথম এন্ট্রাস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে । ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয় । বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক সুধাংশ শেখর তালুকদার। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে ২০১১ ও ২০১৩ সালে এস.এস.সি'তে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। আর জে.এস.সি.তেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য বিদ্যালয়টির। আবার ২০১৩ সালে নেত্রকোনায় প্রথম স্থান অধিকার করে। খেলাধুলায় সাফল্যও কম নয়। ২০১৩ সালে ব্যাডমিন্টনে জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। তাছাড়া নাটক ও বিতর্কে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অসামান্য সাফল্য। আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল হান্নান এবং শিক্ষক চিকিত্সক আইনবিশারদসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান শিক্ষার্থী এই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন।যুগে যুগে আরো খ্যাতিমান মানুষ তৈরি করবে বিদ্যালয়টি এটিই প্রত্যাশা ছাত্র-ছাত্রী ও সকলের।